Obaidullah Muhammad

                পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ ছেলেটির নাম তাসনীম। বয়স সবেমাত্র ছ’বছর। এটুকু ছেলেটা পুরো বাড়িটিকে জুড়ে খুশি ছড়ায়। তাসনীমরা যৌথ পরিবারের সদস্য। তাসনীমের বাবা তার দাদা-দাদীর একমাত্র সন্তান। চার বোনের পরে তাসনীমের আগমনে তার দাদা লাগাতার তিনদিন ব্যাপী নিজ কাচারীঘরকে হাতেম তা’ঈর মেহমানখানায় রূপ দিয়েছিলেন। তাসনীম তার মায়ের গর্ভে থাকাকালীন সময়ে ডাক্তারমশাই ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন যে,
-এই সন্তান জন্মের পরেই মারা যাবে অথবা সে বেচে যাবে বাকপ্রতিবন্ধি হয়ে।
কিন্তু আফসোসের বিষয় হচ্ছে ডাক্তারমশাই পড়া-লেখা করেছেন বিজ্ঞান নিয়ে। সুতরাং তার তো কোনোমতেই জ্যোতিষবিদ্যার উপর জোড় চলার কথা না। তাই তো আজ তাসনীমের কথা শুনতে শুনতেই সকলে ডাক্তার মশাইকে একবার করে স্বরণ করে। সবাই যখন ব্যস্ত থাকে তখন তাসনীমের কথা বলার আরেকজন সাথী সর্বদা উৎফুল্ল থাকে তার কথা শুনতে। যাকে দাদাজান আদর করে নাম দিয়েছিলেন লালশালু। শুরুর দিকে কয়েকদিন তাসনীম তাকে ভয় পেত। কিন্তু আস্তে আস্তে তাকে আপন করে নেয়। তাকে সকল প্রকার সুখ-দুঃখের কথা  বলে। কিন্তু সে কোনো জবাব দেয় না। কারণ সৃষ্টিগতভাবেই সে বাকহীন। সে সমাজে মানুষের সাথে বাস করলেও তাকে তাকে জাতিগত নামে তথা গরু বলে ডাকা হয়।
                  ওর দাদা খায়রুল মৃর্ধা সেই পাকিস্তান আমল থেকেই স’মিল ব্যবসায়ী। সংগ্রামের সময় তিনি পাড়ার যুবকদেরকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। নিজের কড়ই বাগানের দক্ষিন দিকে একটি ঘর উঠিয়ে দিয়েছিলেন। সেখানে প্রতিদিন দুপুরের ভোজনশেষে তিনি সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ের কাহিনী শোনাতেন। যুবকদের দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত থাকার জন্য দিল্লি থেকে ‘মারফি’ রেডিও কিনে এনেছিলেন। ৭ই মার্চের দিন যুবকদের একটি প্রতিনিধি দলকেও তিনি ঢাকা পাঠিয়েছিলেন নিজ খরচেই। মুক্তির সংগ্রাম শুরুর পরে সেই যুবকদেরকে তিনি ইন্ডিয়া পাঠানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তাদের সকলের ঘরের মহিলাদেরকে নিজের ঘরে ঠাই করে দিয়েছিলেন। কিন্তু মাহাজন হওয়ার খাতিরে তিনি আর নিজ পাড়া ছাড়তে পারেন নি। বরং পাকিস্তানিদেরকে খাবার পৌছে দিতেন, পাড়ার স্কুলঘরটিকে মেরামত করিয়ে তাদের থাকতে দিয়েছিলেন। কিন্তু অপরদিকে তিনি আবার মুক্তিবাহীনিদের কাছে পাকিদের ষড়যন্ত্রের খবর পৌছে দিতেন স’মিলের কাজের ছেলে কালুকে দিয়ে। এভাবে করেই তিনি নিজের কারবার, পরিবার ও গাঁয়ের মুক্তিসেনাদের মা-বোন, স্ত্রী-কন্যাদেরকে পাকিদের থেকে রেহাই দিয়েছিলেন।
                        তাসনীম সকলের আদরের হওয়ায় তাকে এখনও স্কুল বা মাদ্রাসায় পাঠানো হয় নাই। তবে তাকে নিজ ঘরেই শিক্ষা দেওয়ার কার্যাবলি ঠিক করা হয়েছে। তার বড় বোনদেরকে প্রাথমিক শিক্ষা তথা ক্লাস ৫ এর পরে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দেওয়া হয়। তাই সে তার বড়বোনদের থেকেই পড়া-শোনার হাতেখড়ি নেয়। রোজ দুপুরে খাবার খেয়ে কাচারি ঘরে দাদির কাছে গিয়ে কাহিনী শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ে। একে একে সে প্রায় সকল নবী-রাসুলদের কাহিনী জেনে ফেলে। কিন্তু বরাবরের মতো ইবরাহিম আঃ এর ইসমাঈল আঃ কে কুরবানি করতে নিয়ে যাওয়া এবং তার পরিবর্তে দুম্বা কুরবানি হওয়ার কাহিনী শোনার পরে জানতে চায় যে,
- আমাদের গরু-ছাগল কুরবানি করার মধ্যে ত্যাগ হয় কিভাবে।
- আমরা আল্লাহর হুকুম পালন করি। এর মধ্যেই আমাদের ত্যাগ রয়েছে। আর এমন কথা বলতে হয় না।
দাদির কথায় সে চুপ হয়ে গেলেও তার মনে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়।
        তাসনীমের দাদা খুব দানশীল মানুষ। প্রত্যেক কুরবানির ঈদে তিনি একটি গরু কুরবানি করেন। এবং নিজেদের খাওয়ার উদ্দেশ্যে কিছু গোশত রেখে বাকিসব গরীবদের মাঝে বিলিয়ে দেন। তার দানশীলতার কারনে পাড়ার সকলে তাকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু এদেখে গ্রামের কিছু নীতিহীন রাজনীতিবিদের শরীরে আগুন ধরে যায়। তারা তাকে প্রথমে নিজেদের দলে ভিড়াতে চায়। কিন্তু তিনি এতে রাজী না হলে তার নামে অপবাদ রটায় যে, তিনি নাকি যুদ্ধের সময় গ্রামের সকল বয়সের মেয়েদেরকে নিজের ঘরে আটকে রেখে পাকিদেরকে দিয়ে তাদের ইজ্জত লুটিয়েছেন। এসবের পরে মানুষ যখন আসল ইতিহাস জানতে পারে তখন তার প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়। এরপরে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা করা হয়। তাকে আটক করা হয়। টানা নয় মাস তার উপরে চলে নির্যাতন। আর পাঁচদিন বাদে কুরবানি। খায়রুল সাহেবকে আটকের পর থেকে তার পরিবারের উপর নেমে আসে আর্থিক অনটন। একে একে লালশালুকে রেখে সব গরুগুলোই বিক্রি করে দিতে হয়। খায়রুল সাহেব তার ছেলেকে বলেন,
- এবারের ঈদেও কিন্তু কুরবানি করতে ভুলবে না।
- আব্বাজান! লালশালু ছাড়া আর কোনো গরু বাকি নেই।
- তাহলে লালশালুকেই কুরবানি করতে হবে। আমার কুরবানির উপরেই অনেকগুলো পরিবারের গরুর গোশত খাওয়া জোটে।
- কিন্তু, আব্বাজান! এর ফলে তো তাসনীম ভেঙ্গে পড়বে।
- আমি আর বেশি দিন বাঁচবো না। আমার মৃত্যুর আগেও আমি আমার দরজা থেকে গরীবদেরকে খালিহাত ফেরত যেতে দিতে চাই না। কুরবানির পরের দিন তাসনীমকে আমার কাছে নিয়ে আসবে।
- ঠিক আছে, আব্বাজান।
                           দাদার জেলে যাওয়ার পর থেকে তাসনীমের দিনের একটা বড় সময় কাটে লালশালুর সাথেই। দেখতে দেখতে এবারো কুরবানির ঈদ এসে গেল। ঈদের আগের দিন তাসনীমকে নতুন পাঞ্জাবি-পাজামা, জুতো কিনে দেওয়া হয়। সে ওগুলো অতি গোপনে লুকিয়ে রাখে কাউকেই দেখাতে চায় না। পাছে আবার ঈদ যদি পুরনো হয়ে যায়। ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে যায় লালশালুর কাছে। কিন্তু একি লালশালু যে কাঁদছে। সে লালশালুর গলা জড়িয়ে ধরে আদর করে জিজ্ঞেস করে, কী হয়েছে তার ? সে কাঁদছে কেন ?
লালশালু কোনো জবাব না দিয়ে চোয়ালটা তাসনীমের পিঠে ঠেকিয়ে অনবরত কেঁদেই যায়। তাসনীম দৌঁড়ে আসে বাড়িতে। সবাইকে বলে লালশালু কাদঁছে। সেও কাঁদতে শুরু করে। বাবা তাকে বলেন,
- তুমি তোমার গোসল করে নতুন জামা-কাপড় পরে লালশালুর কাছে যাও, দেখবে তার কান্না থেমে যাবে।
- সত্যি বলছো!
- হ্যাঁ।
- আম্মুউউঊ! আমাকে গোসল করিয়ে নতুন কাপড় পড়িয়ে দাও।
তাসনীমের বাবা জানেন যে, লালশালুর কান্না থামবার নয়। তাসনীমকে জামা-কাপড় পরিয়ে তার বাবা ঈদগাহে নিয়ে যান। ইমাম সাহেব বয়ানে ইবরাহিম আঃ এর কুরবানির ইতিহাস তুলে ধরে বলেন,
- কুরবানির দ্বারা আল্লাহর আমাদের কাছ থেকে ত্যাগ চান, যাতে করে আমরা তাকওয়া এবং খোদাভীতির অধিকারী হতে পারি। আমরা কুরবানি করবো আল্লাহকে খুশী করার লক্ষ্যে।...........
তাসনীমের মনে আবার সেই বিষয়টি ঘুরপাক খেয়ে ওঠে। “গরু কুরবানি করার দ্বারা প্রিয় বস্তু কুরবানি করার সাথে মিল কোথায়?”
ঈদের নামাজ শেষে তাসনীম বাড়িতে এসে দেখে লালশালু কেঁদেই চলছে। তাসনীম তাকে কান্না থামাতে বলে। কিন্তু সে কান্না থামায় না। শুধুই কেঁদে যায়। তাসনীম বলে,
- দেখো তুমি কান্না না থামালে কিন্তু আমি আজকে কোথাও যাবো না। কিচ্ছু খাব না। আমি কিন্তু সারাদিন কান্না করবো।
কিন্তু লালশালুর কান্না যেন বেঁড়েই চলছে। তাসনীম বাড়ির ভিতরে গিয়ে বালিশের নিচে মাথা দিয়ে কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে যায়। দুপুর বেলা ঘুম থেকে উঠে দেখে লালশালু নেই। কোথায় গেল সে? কাকে বলে সে এ বাড়ি থেকে পাঁ বাড়ালো? এত বড় সাহস সে কোথায় পেল?
তাসনীম তাকে খুঁজতে বের হতে উদ্দত হলো। তাসনীমের সেঝ বোন তাকে বললো যে,
- লালশালুকে কুরবানি করা হয়েছে।
তাসনীম সকলের দিকে তাকিয়ে দেখল। সকলের চোখ নিচের দিকে। সকলের মুখে বিষাদের ছায়া। তাসনীম চুপ করে ঘরের মাঝখানে দাড়িয়ে বললো, আমাকে দাদুর কাছে নিয়ে চলো। আমি তোমাদের সবার নামে দাদুর কাছে বিচার দিবো। সে কিছু না খেয়েই আবার গিয়ে বিছানায় পড়ে কাঁদতে লাগলো।
পরদিন তাকে নিয়ে পরিবারের সকলে দাদুর সাথে দেখা করতে গেলো। দাদুর কোলে মাথা দিয়ে সে কি কান্না। তাসনীমের বাবা আমতা আমতা করে বললো,
- কাল থেকে সে কারো সাথেই কথা বলে না। কিছুই খায় না। শুধু বলে আমাকে দাদুর কাছে নিয়ে চলো। তোমাদের সবার নামে বিচার দিবো।
তাসনীমের দাদু তার মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দেন। তারপর বলেন,
- দাদুভাই! কী হয়েছে ? তোমাকে কে কি বলেছে ?
- ওরা আমার লালশালুকে কুরবানি দিয়েছে। তুমি ওদের বিচার করবে।
- আচ্ছা ঠিক আছে। ওদের বিচার হবে। কিন্তু তুমি কি ইবরাহিম আঃ এর কুরবানির কথা শুনেছো ?
- হ্যাঁ। কিন্তু আল্লাহ তা’আলা ইবরাহিম আঃ কে তার প্রিয় বস্তু কুরবানি করতে বলেছেন। পরে তিনি তার ছেলে ইসমাঈল আঃ কে কুরবানি করতে নিয়ে যান। এরপরে একটি দুম্বা কুরবানি হয়ে যায়। এবং আল্লাহ তাদের উপরে খুশী হন।
- বাহ! তুমি তো সবকিছুই জানো। আল্লাহ মানুষের প্রিয় বস্তু দুনিয়া থেকে নিয়ে যান ঠিকই, কিন্তু যারা আল্লাহকে খুশী করতে পারে তাদেরকে দুনিয়া ও আখিরাতে পুরষ্কার দেন। তুমি কি চাওনা যে আল্লাহর তোমার উপর খুশী হয়ে তোমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে পুরষ্কার দেন?
- হ্যাঁ।
- এইযে এইবারের কুরবানির ঈদে তুমি তোমার প্রিয় লালশালুকে কুরবানি দিয়েছো। এটা কার কুরবানির মতো হয়েছে, বলতে পারো ?
- কার ?
- ইবরাহিম আঃ এর মতো। তাই না?
- হ্যাঁ।
- সুতরাং, ইবরাহিম আঃ এর উপর যেমনি আল্লাহ খুশী হয়েছিলেন তেমনি আজ আল্লাহর তোমার উপরও খুশী হয়েছেন। তুমি কি তা জানো ?
- তাই নাকি! তাহলে এখন আমি আল্লাহর কাছে যা চাব তাই কি তিনি আমাকে দিবেন ?
- হ্যাঁ।
- তাহলে আমি তোমার জন্যেই প্রথমে দোয়া করব। তুমিই বলো আমি তোমার জন্য কি চাব আল্লাহর কাছে।
- তুমি আমার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কর যে, তিনি যেন আমাকে তার অতি শীগ্রই তার কাছে নিয়ে যান।
- ঠিক আছে। আল্লাহ যেন তোমাকে তার কাছে তাড়াতাড়িই নিয়ে যান। আমিন বলো।
- আমিন। তাহলে আমি তোমার বাবার কাছে বলে দেব তোমাকে যেন আরেকটা লালশালু কিনে দেয়। আর তুমি সামনের বছর আবার তাকে কুরবানি দিবে এবং আল্লাহর কাছে আমার আখিরাতের জন্য দোয়া করবে।
- ঠিক আছে, দাদুভাই!
সেইদিন সকলে বিদায় নিয়ে চলে আসলো। পরদিন সকালে তাসনীমের বাবা তাকে ডেকে বললো,
- তাসনীম তোমার দাদুকে আল্লাহ তার কাছে নিয়ে গেছে। চলো, তার সৎকার করতে হবে।
একমাস পরের এক সকালে তাসনীম ঘুম থেকে উঠে দেখল লালশালুর ঘরে আরেকটি লাল টুকটুকে গরু দাড়িয়ে আছে। তাসনীমের বাবা তাকে বললো এটা হচ্ছে তোমার নতুন লালশালু।

নামাজ বলা হয় নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে, নির্ধারিত কিছু ইবাদত করাকে। নামাজ ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে একটি। কালিমার পরেই এর স্থান। একজন মুসলমানের ঈমান আনয়নের পরে সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে নামাজ আদায় করা। 



মুসলমানদের জীবনে নামাজের গুরুত্ব রয়েছে অপরিসীম। কেননা, মহান আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনের অসংখ্যা জায়গায় মুমিনকে নামাজের আদেশ দিয়েছেন। এবং নামাজের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেন, “মুমিনরাই সফল, যারা তাদের নামাজের প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোযোগী”। (সুরা মুমিনুন- ১-২) 
এছাড়াও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, “ঐ সত্তার কসম, যার হাতে আমার জীবন। আমার মনে চায়, আমি আদেশ দেই কিছু লাকড়ি একত্র করার। এরপর আমি কাউকে আদেশ দেই আযান দেওয়ার, এরপর কাউকে নামাজের ইমামতির আদেশ দেই, তারপর মানুষের বাড়িতে যাই, যারা নামাজে হাজির হয়নি তাদের বাড়িগুলোতে তাদেরসহ আগুন লাগিয়ে দেই। কিন্তু নারী ও শিশু থাকার দরূন আমি এমনটা করি না।” (বুখারী ও মুসলিম) 
উল্লেখিত কুরআনের আয়াত ও হাদীসের ন্যায় আরো অনেক আয়াত ও হাদীসে কোথাও ধমক দিয়ে বা শাস্তির ভয় দেখিয়ে আবার কোথাও পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে নামাজের গুরুত্ব বুঝানো হয়েছে।
নামাজের গুরুত্বের উপর এত জোড়দার করার তাৎপর্য রয়েছে অনেক। যার কিছু আমরা কুরআন ও হাদীসে পাই। কিন্তু বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর চেয়ে অনেক বেশী তাৎপর্য নিহিত রয়েছে নামাজে। নামাজের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হচ্ছে, “কাফের ও মুমিনদের মাঝে পার্থক্য করা”। (বুখারী) যেমনটা হাদীসে পাওয়া যায়। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।” (সুরা আনকাবুত-৪৫) 
আমরা এই আয়াতের দ্বারা বুঝতে পারি যে, যদি এ দেশের যুব সমাজকে ইভটিজিং, ধর্ষণ, খুন, ডাকাতি, চুরি-ছিনতাই, ঘুষ ও দুর্নীতি মুক্ত রাখতে হয়, তবে তাদেরকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করতে হবে। এবং দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলের উপরে নামাজের গুরুত্বারোপ করার পদক্ষেপ কার্যকারী হবে বলে গন্য। অন্যত্র আল্লাহ বলেন, যারা ঈমান এনেছে, সৎকর্ম করেছে এবং নামাজ ও যাকাত করেছে, তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা কখনো চিন্তিত হবে না। (সূরা বাকারা-২৭৭) 
এখানে যেই বিষয়টা আমাদের সামনে পরিস্কার হয়ে আসে তা হচ্ছে যারা নামাজ পড়ে তারা কখনো শত্রুকে ভয় পায় না। যদি দেশের উপর কখনো শত্রুর আক্রমণ হয় তবে তারাই নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করে আনতে পারবে। অর্থাৎ, ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যেই স্বাধীনতা অর্জন করেছি, তা অক্ষুন্ন রাখতে হলে নামাজের কোন বিকল্প নেই। এবং নামাজের দ্বারাই বর্তমান তারুন্যের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। এছাড়াও নামাজের দ্বারা মানুষের মাঝে ভালবাসা ও বন্ধুত্বের বন্ধন সৃষ্টি হয়। এছাড়াও দিনে পাচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার দ্বারা দিনের প্রয়োজনীয় শারীরিক ব্যায়ামও হয়ে যায়। ফলে নামাজ শারীরিক সুস্থতার জন্য উপকারী বলে বিবেচ্য। এছাড়াও দিনে পাচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করার পিছনে আল্লাহর জ্ঞানে আমাদের অজানা আরো অনেক তাৎপর্য রয়েছে। 
উল্লেখিত বিষয়গুলোর দ্বারা বুঝে আসে আমাদের ব্যক্তিক, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে নামাজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। আমাদের সকলের উচিৎ নিজেকে এবং বন্ধুদেরকে ও আত্মীয় স্বজনদেরকে নামাজের প্রতি উৎসাহিত করা এবং সময় হলে নামাজ ঠিকমতো আদায় করে নেওয়া।


তাং-  ২৭/১২/২০১৮ইং                   -রচনায়
                                         মুহাম্মাদ ওবাইদুল্লাহ

সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার জন্য করি। কেননা, তিনি আমাদের মানবজাতিকে সামাজিক জীবরূপে সৃষ্টি করেছেন। দুনিয়াতে আল্লাহ হাজারো জীব সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু একমাত্র মানুষকেই সামাজিকভাবে বসবাস করার জ্ঞান এবং বসবাসের উপকরন দিয়েছেন। মানুষকে তিনি সমাজে শৃংখলা বজায় রেখে বসবাস করতে উন্নত শিক্ষা-সংস্কৃতি দিয়েছেন নবী-রাসুল প্রেরনের মাধ্যমে। এ ব্যাপারে স্বয়ং আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন, “আমি প্রত্যেক রাসুলকেই তার স্বজাতির ভাষাতেই প্রেরন করেছি, যাতে সে তাদের কাছে বর্ননা দেয়।”(সুরা ইবরাহিম-৪) 
সুতরাং, কুরআনের এই এশী বানীর দ্বারা একটা বিষয় তা পরিস্কার বুঝে আসে যে, নবী রাসুলগণ মানুষের সমাজে শান্তিতে বসবাসের জন্য শিক্ষা-সংস্কৃতি নিয়ে এসেছেন। মানুষ যদি সমাজে শান্তি বজায় রাখতে চায় তাহলে নিজেদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা পরিপূর্নভাবে রাখতে হবে। আর নৈতিকতা সঠিক ও শুদ্ধভাবে ব্যবহার করতে হলে দরকার সঠিক শিক্ষা-সংস্কৃতি। শিক্ষা-সংস্কৃতির ব্যবহার ও অপব্যবহার দুটোই পৃথীবিজুড়ে সমাদৃত। তবে তুলনামূলকভাবে অপব্যবহারই বেশী হয়ে থাকে। এবং পৃথীবিজোড়া বর্তমানে শিক্ষা-সংস্কৃতির সঠিক প্রয়োগ হয় একমাত্র ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির দ্বারা। এই ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি পাওয়ার নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হচ্ছে মাদ্রাসা।
বিট্রিশ বেনিয়ারা যখন উপমহাদেশ দখল করে নেয়, তখন নিজেদের রাজত্ব স্থায়ী করতে তারা এ অঞ্চলের মানুষকে মেধাশুন্য করার চিন্তা করে। এ লক্ষ্যে তারা মানুষের শিক্ষার অধিকার ছিনিয়ে নেয়। যাতে করে জাতি নৈতিকতা হারিয়ে স্বাধীনতা ভুলে গোলামীর শিকলে আবদ্ধ হয়। জাতির এহেন নাজুক পরিস্থিতিতে সমকালীন কয়েকজন সচেতন ধর্মপরায়ন ব্যাক্তিবর্গ মিলে আল্লাহর উপর ভরসা ও পূর্নবিশ্বাসকে পুজি করে অদম্য সাহসীকতার সাথে উপমহাদেশের মুসলিমদের সঠিক নৈতিকতার শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যে ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি সংকলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এই ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি সম্বলিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই পরে মাদ্রাসা নামে পরিচিত হয়। এর প্রতিষ্ঠাতাগণের যারা আলেম ছিলেন, তারা এই মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির সিলেবাস প্রস্তুত করেন। এ সিলেবাস প্রনয়নে তারা লক্ষ্য রেখেছেন যে, এ সিলেবাসের আওতায় পড়াশোনা শেষ করার দ্বারা একজন শিক্ষার্থী কুরআন ও হাদীসের অগাধ জ্ঞানার্জনের পাশাপাশী স্বদেশকে শত্রুমুক্ত করার যোগ্যতা রাখবে। এরই সাথে সমাজ সংস্কারক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারবে। আবার আদব-শিষ্টাচার বা ভদ্রতার ক্ষেত্রেও হবে স্বার্থহীন। এবং এই সিলেবাস প্রস্তুতকারকবৃন্দ শুধু সিলেবাস প্রনয়নেই ক্ষ্যন্ত হননি। বরং, এ সিলেবাসের শিক্ষার্থী যেন তার শিক্ষাকে সঠিক ক্ষেত্রে এবং দেশ ও জাতির কল্যানে ব্যবহার করে তার জন্য আলাদাভাবে খেয়াল রেখেছেন। 
মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিখা রয়েছে। সর্বপ্রথম যেই মাদ্রাসার ইতিহাস আমরা ইতিহাস গ্রন্থসমূহ থেকে পেয়ে থাকি সেই মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি এমন একজন শিক্ষক ছিলেন, যিনি একমাত্র আল্লাহর কাছ থেকেই জ্ঞানার্জন করতেন এবং সেই মাদ্রাসার কোন আলাদা আইন কানুন ছিল না। ছিল না কোন নির্দিষ্ট ক্লাসরুম। তবুও সেই মাদ্রাসার ছাত্ররাই দুনিয়াব্যাপী এক আল্লাহর একত্ববাদ ও রাসুলের শিক্ষা, মানবতার মুক্তির আহবান নিয়ে ছড়িয়েছেন। এই মাদ্রাসা ছিল রাসুলের নিজ শহর মদীনায়। এরপর, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের চতুর্থ খলীফা হযরত আলী (রাযি.) তার খিলাফতকার্য পরিচালনার কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেন ইরাকের কুফা নগরীকে। এরই মাধ্যমে ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের আরেকটি কেন্দ্র হয়ে ওঠে ইরাক। এই দুই কেন্দ্র থেকে মূলত মাদ্রাসা শিক্ষার হাতে খড়ি। নিয়মতান্ত্রিক মাদ্রাসার প্রচলন হয় সর্বপ্রথম বাগদাদের মাদ্রাসায়ে নিজামীয়া থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রচলিত সিলেবাসকে দরসে নিজামী বলা হয়ে থাকে। এরপর আমাদের উপমহাদেশে ইংরেজ শাসন চলাকালীন সময়ে যখন একের পর এক আন্দোলন অসফল প্রমানিত হচ্ছিল, তখন মানুষ হতাশার গহিনে ডুবে গিয়েছিল। তৎকালীন সময়ে অদৃশ্য ইশারার ভিত্তিতে কয়েকজনের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সুচিন্তার ফসল হিসেবে দিল্লিতে প্রথম মাদ্রাসাটির পথচলা শুরু হয়। ধীরে ধীরে মুসলিমরা এই শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি ঝুকে পড়ে। এরই জেড় ধরে উপমহাদেশ স্বাধীনতা আন্দোলনের ভিত আবার মজবুত হতে শুরু করে। একসময় যখন ইংরেজরা নিজেদের অদূর ভবিষ্যত অন্ধকার দেখতে পায়। তখন তারা এর শিকড়ের সন্ধানে লেগে যায়। এবং যখন এই মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, তখন মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতিকে বিলীন করতে নানামুখী অপচেষ্টা চালিয়ে যায়। কিন্তু একের পর এক ব্যর্থতার গ্লানি তাদেরকে বরন করে নিতে হয়। এরপর তারা নিজেদের সুক্ষ বিশ্লেষণকে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলে মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির বিপরীতমুখী চিন্তা-চেতনার বীজ মানুষের মনে বপন করে দিয়ে যায়। মানুষকে ধারণা দেওয়া হয় যে, এই শিক্ষা-সংস্কৃতির মধ্যে কোন লাভ নেই। অর্থ উপার্জনের উপকরন হিসেবে গ্রহন করার পর্যায়ে পর্যাপ্ত পার্থিব জ্ঞান আহরনের ব্যবস্থা এ শিক্ষা ধারায় নেই। সুতরাং, এ শিক্ষা-সংস্কৃতি নিছক অথর্ব। এখানে লক্ষনীয় বিষয় হলো মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি মূল উদ্দেশ্য নৈতিক উৎকর্ষ লাভ। আর তা পরিপূর্নভাবেই অর্জিত হয়। এবং এ শিক্ষা-সংস্কৃতি অর্জনের দ্বারা রাষ্ট্রীয়, সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিক জীবন সুশীল ও পরিমার্জিত হয়। এ শিক্ষা-সংস্কৃতি অর্জনের দ্বারা মনুষ্যত্ব ও নৈতিকতার বিকাশ ঘটে। তবে এ শিক্ষা-সংস্কৃতির দ্বারা যে কোন উপার্জনই করা যায় না, তা নয়। বরং, উচ্চ অর্থবিত্ত অর্জনের জন্য পৃথক শিক্ষা রয়েছে। কিন্তু, তাতে নৈতিকতার শিক্ষা খুব কমই পাওয়া যায়। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির ধারক বাহকরা যেহেতু পরিপূর্ন আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস নিয়ে তার হুকুমসমূহ বিনা বাক্যব্যয়ে মেনে নেয়, তাই তারা উপার্জনের বিষয়টি আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছে। কেননা, আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, “আমিই তোমাদের এবং তোমাদের সন্তানদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি।” (সুরা হুদ-৬)


মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসার শুধু উপমহাদেশেই নয়। বরং, এ শিক্ষা-সংস্কৃতি পুরো এশিয়াজুড়ে এবং এর বাহিরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা ও আফ্রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। আমাদের বাংলাদেশে এ ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে প্রায় পাচ হাজারেরও অধিক রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ের মক্তব রয়েছে প্রায় ষাট হাজারেরও অধিক। এসব মাদ্রাসা ও মক্তবগুলোতে শিক্ষার্থীদের যে নৈতিকতার শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চা করানো হয় তা পুজি করেই এখনও বাংলাদেশের শান্তি ও শৃংখলার অবস্থান মোটামুটি ভালোই আছে। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য আমাদের ব্যাক্তিগত জীবনের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় জীবনে বহু তাৎপর্যপূর্ন।
মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্যের পাশাপাশি এর অবদানও অনেক বেশী প্রভাব রাখে আমাদের জীবন ব্যবস্থাপনায়। এর অন্যতম কারন হচ্ছে, মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির মূল ভিত্তিই হচ্ছে কুরআন ও হাদীস। এবং এ শিক্ষার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ইসলাম ধর্মের প্রবর্তিত জীবন ব্যবস্থাকে সঠিকভাবে জানা এবং তার প্রচারের প্রসার ঘটানো। আর ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য জীবন ব্যবস্থা হলো ইসলাম।” (সুরা আলে ইমরান-১৯) 
অনেক বিজ্ঞজনদের মতে ইসলামই হচ্ছে একমাত্র পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান। সুতরাং, এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে যদি মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির অবদান আমাদের বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মিলিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করি, তবে তার ইতিবাচক বৈ নেতিবাচক কিছুই পাওয়া যাবে না। 
এমন হাজারো বিষয়ের মধ্যে থেকে যদি আমরা মানবাধিকারকে বেছে নেই এবং বিশ্লেষণ করি যে, মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির এই বিষয়ের উপর অবদান কতটুকু, তবে আমরা দেখতে পাই যে, মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রতিনিয়ত সোচ্চার ভুমিকা রাখছে। প্রতি বছরেই একটা নির্দিষ্ট সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিতরা মানুষদেরকে যাকাত দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহিত করে থাকে। আর যাকাত এমন একটা উপকারী বিষয়ে যা সমাজের সকল শ্রেনীর মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থাকে উন্নত করতে একমাত্র বৈধ পন্থা। যখন মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা উন্নতি সাধন করবে তখন খাদ্যের জোগান আল্লাহর ইচ্ছায় সহজ হয়ে যায়। দুমুঠো ভাতের জন্য আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ানোর প্রয়োজন থাকে না। এর সাথে মানব জীবনের আরেকটি বিষয় যোগ করে নিতে হয়, কাপড় বা পরিধেয় বস্ত্র প্রয়োজনমাফিক থাকা। আবার বাসস্থানের প্রয়োজন সবচেয়ে আগেই চলে আসে। এরপরে মানব জীবনের মৌলিক অধিকারের মধ্যে গণ্য করা হয় শিক্ষাকে। এক্ষেত্রে শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায়ই ধনী-গরিব, সাদা-কালো ইত্যাদি জাতি, বর্ন নির্বিশেষে সকল শ্রেনীর মানুষই গ্রহন করতে পারে। মাদ্রাসা শিক্ষার অর্জনের পাশাপাশী যারা চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন করে থাকে তারা অন্যসব চিকিৎসক থেকে একটু পৃথক হয়ে থাকে। অন্য দশজনের মতো আগে টাকা পরে চিকিৎসা সুত্রে বিশ্বাসী থাকে না। এই মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির অবদান আরেকভাবে অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চায় বেড়ে ওঠা একজন শিক্ষার্থী কখনো ব্যবসায়ীরূপে খাদ্য গুদামজাত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরী করে না বা করবে না। সে কখনো তাকে পেটে ধারন করা মায়ের জাতির শরীর থেকে প্রকাশ্য বস্ত্র হরনের পৈশাচিক বিনোদনে মত্ত হবে না। সে কখনো টাকার এবং ক্ষমতার দাপটকে কাজে লাগিয়ে নিরীহ মানুষের জায়গা দখল করে মানুষকে ঘরছাড়া করে না। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চা করা শিক্ষার্থী নিজের শিক্ষাকে অপরের নিকট বিলিয়ে দিতে টাকার হিসেব করে না। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির অঙ্গনই বর্তমানে একমাত্র দুর্নীতি ও অপরাজনীতি মুক্ত শিক্ষাঙ্গন বললে ভুল হবে না। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি পাওয়া ব্যাক্তি চিকিৎসাবিদ্যা অর্জন করলেও কখনো বৈধ ডাকাতির চিন্তা করে না। মানুষের মাঝে যদি এই মৌলিক  অধিকারগুলোর যথাযথ আদায়ের সুচিন্তা বিরাজ করার মতো কোনো শিক্ষা-সংস্কৃতি থাকে, তাহলে তা একমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি। 
এ বিষয়ের উপর যদি আরেকটু গভিরে চিন্তা করা হয় তাহলে দেখা যায় যে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির অবদান অন্যান্য শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোর তুলনায় অনেক বেশী মাত্রায় প্রশংসনীয় মাদ্রাসা পড়–য়ার মা-বোন কিংবা স্ত্রী-কন্যার কখনো নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার শ্লোগান নিয়ে রাস্তায় মিছিল করতে হয় না। কখনো ইজ্জতের বলী দিয়ে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করার প্রয়োজন হয় না। একজন মাদ্রাসা পড়–য়া তার পড়াশোনা থাকে শুধুই কুরআন ও হাদীস অনুসরনের উদ্দেশ্য। আর পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, “তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য পরিধেয় আর তোমরা তাদের জন্য পরিধেয়।” (সুরা বাকারা-১৭৬) 
এই ঐশী বিধানের মাধ্যমে উপলব্ধ হয় যে, ইসলাম নারীকে করেছে সম্মানিত। অতএব, বিজ্ঞান নিয়ে পড়া শিক্ষার্থী যেমনিভাবে বিজ্ঞান মানবে, ব্যবসায় নিয়ে পড়া শিক্ষার্থী  যেমনিভাবে ব্যবসা করবে। ঠিক তেমনি ইসলাম নিয়ে পড়া বা কুরআন ও হাদীস পড়া শিক্ষার্থী কুরআন ও হাদীসের আদেশ নিষেধ মানবে, এটাই স্বাভাবিক। মাদ্রাসা পড়ুয়া একথা জানে যে, পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত বড় মনীষি এসেছেন তাদের সকলেরই বড় হয়ে ওঠার পিছনে হয়তো তার মায়ের নয়তো তার বোনের অথবা তার স্ত্রী-কন্যার ভুমিকা ছিল এবং আছে। সুতরাং, নারীকে লোলুপ দৃষ্টির খোরাক নয়, বরং সম্মানের পাত্র হিসেবে নিতে হবে। মাদ্রাসা পড়–য়া জানে যে, ইসলাম একজন নারীকে তার নিকটে সম্মান বা ¯েœহ দিয়েছে কখনো মেয়ে হিসেবে, বোন বিবেচনায় অথবা খালা-ফুফুর দৃষ্টিতে কখনো স্ত্রী বা মায়ের আসনে আবার কখনো দাদী-নানীরূপে। নারী এ পর্যন্ত পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে কালজয়ী সেনানায়ক, দূর্বার সিপাহসালার, ন্যায় বিচারক, দূরদর্শি বাদশাহ, মহাজ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক ও যুগশ্রেষ্ট আলেম এবং গাউস-কুতুব। সুতরাং, এই নারী কখনো আমার হাতে লাঞ্চনার শিকার হতে পারে না। এইভাবে নারীর অধিকার ও সম্মান আদায়ে মাদ্রাসা পড়–য়া তার শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও অবদানের স্বাক্ষী যুগের পর যুগ ধরে অক্ষুন্ন রেখেছে। 
মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি বাজিমাত করেছে পিতা-মাতার হক্ব বা অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে। শুধু মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া অন্য কোন শিক্ষা ব্যবস্থায় পিতা-মাতার অধিকার আদায়ের কথা জোড়দারভাবে শিক্ষা দেওয়া হয় না। অথচ পবিত্র কুরআনে আল্ল্হা তা’আলা বলেন, “আমি মানুষদেরকে তাদের পিতা-মাতার সাথে সদাচরনের নির্দেশ দিয়েছি।” (সুরা আহক্বাফ-১৫) মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির চর্চায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে শিখানো হয় যে, মহান আল্লাহ সন্তানদেরকে সর্বদা পিতা-মাতার আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং পিতা-মাতা শিরক ও কুফরের উপর আদেশ দেয়া বাধ্য করার আগ পর্যন্ত সন্তানদেরকে অম্লান বদনে তাদের আদেশ মেনে চলতে বলেছেন। এমনকি যদি তারা কখনও শিরক ও কুফরের উপর বাধ্য করে তাহলে তখন তাদের কথা মানা যাবে না ঠিকই, কিন্তু তদুপরি তখনও তাদের সাথে খারাপ বা অসৌজন্যমূলক আচরন করা যাবে না। বরং, তখনও তাদের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে। আমরা যদি মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির বিপরীতে পাশ্চাত্য শিক্ষা-সংস্কৃতির দিকে দৃষ্টি দেই, তবে আমরা সেখানে এমন এক শিক্ষা দেখতে পাই যেই শিক্ষার মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জনের রাস্তা পাওয়া যায়। মাদ্রাসা বা ইসলামী শিক্ষার বিপরীতমুখী এসব শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোতে দেখা যায় যে, পিতা-মাতা যদি সন্তানকে অন্যায় থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্য প্রহার বা বকাঝকার আশ্রয় গ্রহন করে, তবে সন্তান পুলিশের আশ্রয় গ্রহন করে পিতা-মাতার বিরূদ্ধে। পক্ষান্তরে, মাদ্রাসা পড়–য়া তার শিক্ষার থেকে পাওয়া নৈতিকতাকে কাজে লাগায়। সে তার পিতা-মাতার আনুগত্য করে, তাদের আদেশ ও নিষেধ মেনে চলে, তাদের প্রহার বা বকাঝকা স্বাভাবিকভাবেই মেনে নেয়। এবং পিতা-মাতা বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হলে সর্বদা তাদের সুযোগ সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রাখে, তাদের ভরণ-পোষণ নিজের কাধে তুলে নেয়। 
আর অন্যান্য বিষয়গুলোর ন্যয় এই ক্ষেত্রেও মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির অবদান উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত। এমনি একটি বিষয় হলো প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের অধিকার। সমাজে সকলের সাথে মিলে মিশে চলতে পারলেই সামাজিক বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। আর সমাজে সর্ব শ্রেণীর মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যম হচ্ছে প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের সাথে তাদের অধিকার আদায়ের মাধ্যমে এক গভির ভালবাসার বন্ধন সৃষ্টি করা। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে এ বিষয়ে বলেন, “তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশীর সাথে,....।” (সুরা নিসা-৩৬)  এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে যে, যেখানে আল্লাহ নিজের একত্ববাদ এবং তার ইবাদাতের আদেশ দিচ্ছেন, সেখানেই আবার তিনি পিতা-মাতার পরে নিকটাত্মীয়, প্রতিবেশীর অধিকার আদায় সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন। এর ব্যাখ্যায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বানীসমূহ থেকে পাওয়া যায় যে, মুমিন ব্যাক্তির প্রতিবেশী অনাহারে দিনাতিপাত করবে তা হতে পারবে না। এই শিক্ষা শুধুমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষায় পাওয়া যায়। আর মাদ্রাসা পড়–য়া তার শিক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাবনত হয়েই সে তার প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের অধিকার আদায়ে পূর্নমাত্রায় সতর্ক ও সোচ্চার থাকে। এতে করে মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি সমাজে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করতে এক অবর্ননীয় অবদান যুগের পর যুগ ধরে প্রতিষ্ঠা করে আসছে। 
এরপরে মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি অশ্লীলতামুক্ত, সুখী ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে এবং সমাজ সংস্কারক তৈরীতে বিশেষ অবদান রাখে এ বিষয়টিও নিশ্চিত হওয়া যায়, এ সকল বিষয়ে তাদের কর্মপদক্ষেপ বিবেচনা করে। মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি সহশিক্ষাকে সমর্থন করে না আল্লাহর বিধান পালনার্থে। তাই মাদ্রাসা শিক্ষাকে সেকেলে বা বর্বরযুগীয় বৈষম্যপূর্ন শিক্ষা-সংস্কৃতি বলে চালিয়ে দেওয়ার একটা প্রবনতা সমাজের কিছু সুযোগ সন্ধানী বখাটের কাছ থেকে শোনা যায়। অথচ, আজকের আধুনিক পৃথিবীর সহশিক্ষার ফলাফল হিসেবে আমরা প্রায় প্রতিদিনের জাতিয় দৈনিকের পাতা ওল্টালেই একটা সহপাঠী কতৃক ধর্ষন বা যৌন হয়রানির সংবাদ স্বাভাবিকভাবেই পেয়ে যাই। কেমন যেন এই খবরটা না থাকলে মনে হয় গতকাল বোধহয় প্রতিবেদকের ছুটি ছিল। এমন নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এই সহশিক্ষার কারনে। এছাড়াও মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি একজন শিক্ষার্থীকে অশ্লীলতামুক্ত সমাজ, রাষ্ট্র গঠনে উৎসাহিত করে থাকে। কেননা, যুবক বা তরুন সমাজ হচ্ছে রাষ্ট্র বা সমাজের জন্য অমূল্য সম্পদ। আর এই সম্পদ যদি অশ্লীলতার ছায়াতলে ধ্বংসের পথকে বেছে নেয়, তবে সমাজ বা রাষ্ট্র একসময় রসাতলে যাবে। তাই অশ্লীলতামুক্ত সমাজ গঠনে মাদ্রাসার অবদান স্বীকার করে নেওয়াটাই শ্রেয়। এরপরে আবার সুখী ও স্বাবলম্বী সমাজ গঠনে মাদ্রাসা শিক্ষার অবদান রয়েছে দৃষ্টির মধ্যেই। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী কখনো কারো ক্ষতি করে না। কেননা, তাকে মাদ্রাসায় শিক্ষা দেওয়া হয়, হিংসা ও অহংকারমুক্ত জীবন গড়ার। শিক্ষা দেওয়া হয় তার দ্বারা মানুষের আর্থিক বা কায়িক সহযোগীতা পাওয়ার। তার দ্বারা যেন কখনো কারো উপকার বৈ ক্ষতিসাধন না হয়। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী যেন নিজেই কারো সাথে ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত না হয়। বরং, সে যেন অন্যদের মাঝে সুষ্ঠ মিমাংসার দ্বারা পরস্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারে। এই সংস্কৃতি পেয়ে থাকে একজন মাদ্রাসা পড়–য়া। মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন কখনো চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাইকে নিজের পেশা বানায় না। কারন, এসকল ঘৃন্য কাজের দরূন সমাজে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়। এতে করে সমাজে মানুষে মানুষে কোন্দল সৃষ্টি হয়। অথচ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “প্রকৃত মুসলিম সেই যার হাত ও মুখ থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে।” (সহিহ বুখারী-৯) এর পাশাপাশী মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি সমাজ সংস্কারক গঠনে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করে আসছে। আর এটা এভাবে প্রমান হয় যে, মাদ্রাসা একজন শিক্ষার্থীকে ইসলামী শিক্ষায় গড়ে তোলে। আর ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি এবং ইসলাম ধর্ম ও ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পৃথিবীর সবচেয়ে শ্রেষ্ট ব্যাক্তি এবং তার ধর্ম সবচেয়ে শ্রেষ্ট ও তার ধর্মের ধর্মীয় শিক্ষাই মানবতার মুক্তির দিশা। এ কথার সমর্থন ও এ বিষয়টির পূর্ন নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায় পৃথিবীর অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থসমূহের এবং ধর্মীয় ব্যাক্তিবর্গ, গুরু, পন্ডিত বা সন্যাসীদের স্বীকারোক্তির দ্বারা। এবং এরকম স্বীকারোক্তি পাওয়া যায় বৌদ্ধ ধর্মের ধর্মীয় গ্রন্থ ‘দিঘানিকায়া’ -তে। তাতে লিখা আছে, “মানুষ যখন গৌতম বুদ্ধের ধর্ম ভুলে যাবে, তখন আরেকজন বুদ্ধ আসবেন, তাঁর নাম হবে মেত্তেয়  মৈত্রেয়)” অর্থাৎ, শান্তির বুদ্ধ। উল্লেখ্য যে, গৌতম বুদ্ধের সময়কাল ছিল খ্রীস্টপূর্ব (৫৬৭-৪৯৫) বছর। এবং তার পরে রাহমাতুল্লীল আলামীন বা জগতবাসীর শান্তির বার্তাবাহক উপাধি দেওয়া হয় একমাত্র আমাদের নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে। শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গ্রন্থ সাহেব’ এর ১৭৪ পৃষ্ঠায় বর্নিত আছে, “তাওরাত, যবুর, ইঞ্জিল ও বেদ পরিয়া দেখিয়াছি। কিন্তু এই কুরআনই একমাত্র গ্রন্থ, যাহা কলি যুগে মানবের মুক্তি দিতে একমাত্র সমর্থ।” হিন্দু ধর্মের চারবেদের স্বীকৃতি ভবিষ্যপুরানে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে এক বিশাল পরিচ্ছেদ রয়েছে। এছাড়াও হিন্দুদের অথর্ববেদ, সামবেদ ও যর্জুবেদেও ইসলামের নবী সম্পর্কে অনেক গুনাবলী ও বর্ননা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে আছে। এর পাশাপাশী তাওরাত, যবুর ও ইঞ্জিলে যে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ব্যাপারে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়টি পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বিভিন্ন জায়গায় বর্ননা করেছেন। এছাড়াও অমুসলিম মনীষি বা বিশিষ্ট ব্যাক্তিবর্গের মধ্য থেকে জর্জ বার্নাডশ, এডওয়ার্ড গিবনম, ঐতিহাসিক প্রফেসর ড্রেপার, কবি জন মিলটন, খ্রীষ্টান সন্যাসী বহিরা, ফ্রান্সের কমিউনিষ্ট সদস্য রোজের গারোদী, মাইকেল এইচ হার্ট, মাহাত্মা গান্ধী, স্যার পি. সি. রায়, স্বামী বিবেকানন্দ প্রমুখ হাজারো ব্যাক্তির স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং এর দ্বারা একটা বিষয় সহজেই অনুমেয় যে, মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি একজন শিক্ষার্থীকে যুগশ্রেষ্ট সমাজ সংস্কারকও বানাতে সক্ষম। 
উপরিউক্ত সকল সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ থেকে একট বিষয় তো সহজেয় বোধগম্য হয় যে, মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতি ঐতিহ্য ও অবদানের দিক দিয়ে সর্বশ্রেষ্ট। এবং মানবতার কাঙ্খিত মুক্তি একমাত্র মাদ্রাসা শিক্ষা-সংস্কৃতির ঐতিহ্য ইতিহাস খুজলেই পাওয়া যাবে এবং অবদান শুধু চোখ খুললেই দেখা যাবে। এবং এই ঐতিহ্য যখন জাতি ভুলে যাবে তখনই বিপদের কালো মেঘ ধেয়ে আসবে।

তথ্যসুত্রঃ
* তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন।
* বুখারী শরীফ।
* তাহরীকে দারুল উলূম দেওবন্দ।
* আকাবিরে দেওবন্দ কিয়া থে।
* দেওবন্দ আন্দেলন : ইতিহাস ঐতিহ্য ও অবদান।
* কল্কি অবতার এবং মোহাম্মাদ সাহেব।
* ইসলাম একালের ধর্ম।

তাং-২২/১২/২০১৭ইং                               -রচনায়
                                মুহাম্মাদ ওবাইদুল্লাহ

   


       মানবাধিকার। মানব আর অধিকার এ দু’শব্দের যুক্তরূপ। অর্থাৎ মানুষের অধিকার। মানুষ নিজের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে যে সকল অধিকারের মুখোমুখি হয় তাকেই মানবাধিকার বলা হয়। আর ইসলাম হচ্ছে পৃথিবীর বুকে আর্তমানবতার শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আল্লাহর একত্ববাদের নিঃশর্ত অনুসরনের জন্য সৃজিত একটি জীবন বিধান। ইসলাম সম্পর্কে আল্লাহ নিজেই পবিত্র কুরআনে সুরা আলে-ইমরানের ঊনিশ নং আয়াতে বলেছেন যে, আল্লাহর কাছে একমাত্র গ্রহনযোগ্য জীবন ব্যবস্থা হলো ইসলাম। আবার সর্বকালের শ্রেষ্ট মহামানব হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে, আল্লাহ প্রত্যেক হক্বদারকেই তার হক্ব প্রদান করেন। এরপরে আবার অনেক বিজ্ঞজনদের মতে ইসলামই হচ্ছে একটি পূর্নাঙ্গ জীবন বিধান। এ কথার ভিত্তিতে ইসলামে মানবাধিকারের গুরুত্ব বা মূল্যয়নের পরিমান উপলব্ধ হয়। উপলব্ধ হয় যে, ইসলাম একজন মানুষের জন্মলগ্ন বরং জন্মের পূর্বে মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থা হতে শুরু করে মৃত্যু এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনে যে সকল অধিকারের মুখাপেক্ষি হয় সে সবই সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রনয়নকরত সকল ক্ষেত্রে তা ইনসাফের সাথে বাস্তবায়ন করেছে। পৃথিবীতে বসবাসকারী বর্তমান সাড়ে সাতশো কোটি মানুষের মধ্যে থেকেই যদি মানবাধিকারগুলো বিশ্লেষণ করা হয় এবং মানবাধিকারগুলোর যথাযথ ও ন্যায়সম্মত নীতিমালাগুলো দুনিয়ায় প্রচলিত ধর্মীয়, রাষ্ট্রীয়, সমাজতান্ত্রিক, গণতান্ত্রিক, প্রজাতান্ত্রিক, অর্থনৈতিক, কুটনীতিক ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার দিকে পৃথক পৃথক নিরপেক্ষভাবে দৃষ্টিপাত করলেই দেখা যায় একমাত্র ইসলামই সকল বিষয়ে দুরদর্শিতার সাথে সকল দিক পূর্নবিবেচনা করত পক্ষপাতিত্বহীন সমাধান প্রনয়ন করেছে। 
          এমন বহুল প্রচলিত মানবাধিকার সমূহের মধ্যে থেকে যদি মানুষের জন্ম ও তদপরবর্তি অধিকার নিয়ে ব্যাখ্যা করা হয়, তবে দেখা যায় বর্তমান সময়ে মানুষ গর্ভাশয়ে সন্তান আসার পূর্বেই অনাগত ভবিষ্যত নষ্ট করে দেয়। আর যদিওবা ভুলক্রমে এসেও যায়, তাহলে তাকে বিভিন্ন আধুনিক ও নির্মম পন্থায় আপনপার থেকে পরপারে স্থানান্তরিত করা হয়। মানুষ এই জঘন্য কাজটির ছায়ায় আসে দুটি কারন হতে একটির উপস্থিতি আবার কেহ তো দুটিই অর্জনের ভাগ্য নিয়ে ঘুমোয়। একটি হচ্ছে অবৈধভাবে অনৈতিক কার্য সম্পাদন করত নৈতিকতার উথলে উঠার ফলে জেগে ওঠা আত্মমর্যাদাবোধ। আর অপরটি দারিদ্রতার ভয়বশত ও সুখী সংসার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে। ইসলাম অনাগত শিশুর জন্মের পূর্ব থেকে তার অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধ ও অনৈতিক সম্পর্ক হারাম করে কঠিন শাস্তির বিধান রেখেছে। যাতে অন্যরাও এ ঘৃন্যকর্ম থেকে বিরত থাকে। আর দারিদ্রতার ভয়ের ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, “দারিদ্রতার ভয়ে নিজ সন্তানদেরকে হত্যা করো না। কেননা আমিই তো তাদের ও তোমাদেরকে রিযিক দিয়ে থাকি । নিশ্চয়ই এভাবে সন্তানদেরকে হত্যা করা একটি মারাত্মক মূর্খতা ও বড় অন্যায়।” পক্ষান্তরে, পৃথিবীর অন্য সব জীবন ব্যবস্থাগুলোর দিকে যদি দৃষ্টিপাত করা হয়, তবে দেখা যায় যে, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার শ্লোগান তৈরী করতে কেউই কৃপনতা করেনি। কিন্তু, ইসলাম শ্লোগানের ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও ন্যায়ের বিচারে যথেষ্ঠ আগেই আছে। জন্ম পরবর্তি পরিস্থিতিও ঠিক এমনি হয়ে থাকে কিছুটা। উচ্চবিত্তরা সন্তান পালনের উদ্দেশ্যে নিম্নবিত্ত পরিবারের কাছে সন্তানকে সোপর্দ করে থাকে। (উল্লেখ্য যে, আমাদের নবীর সময়ে সঠিক আদব ও শুদ্ধ ভাষা শিক্ষার উদ্দেশ্যে সন্তানকে অন্য পরিবারে লালন-পালনের দায়িত্ব দেয়া হতো।) যদিও সন্তান নিজের বাবার ঘরেই বড় হয়, কিন্ত কেমন যেন সে একখানা পরগাছা ব্যতিরেকে কিছুই নয়। সন্তানের পিতা-মাতার মধ্য থেকে পিতা থাকে অতিমাত্রায় ব্যস্ত। ব্যস্ততা কখনো হয় সন্তানের ভবিষ্যতকে উজ্জল করার লক্ষ্যে, আবার কখনো বা হয় সন্তানের পৈত্রিক সম্পত্তিতে সন্তানের অবৈধ অংশীদার আনার লক্ষ্যে। আর মাতা মহীয়ষীর কথা না জানলেই নয় বরং, জানলেই ভাল হয়। তিনি তো এক উজ্জল আলোকিত পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে পরম মমতায় সযত্নে কখনো কুকুর পোষেন কখনোবা বিড়াল। আর নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোতে তো নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। এসব পরিবারের সন্তানেরা শিশু বয়স থেকেই স্বাবলম্বী হতে শেখে। নিজেদের হাতখরচ কখনো ঠোটখরচ যোগাড় করা থেকে শুরু করে আরেক শতাব্দির প্রজনন ব্যবস্থায় নিজেরাই নিজেদের অঘোষিত অভিভাবক। আর মধ্যবিত্তরা উভয় দলেই থাকে পরিবেশ ও আবহাওয়া বিবেচনায়। এই সামাজিক বন্টন ব্যবস্থাটা অধিকাংশের ক্ষেত্রে না হলেও মোটামুটি উল্লেখযোগ্য একটা শ্রেনীই এর অর্ন্তভূক্ত। এক্ষেত্রে ইসলাম সন্তান পালনের ব্যাপারে কুরআন ও হাদিসের মাধ্যমে অনেক দিক-নির্দেশনা ও পুরস্কারের ঘোষনা করেছে।
  মানবাধিকারের একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে মানুষের জান ও মালের নিরাপত্তা। এই অধিকার যথাযথ ন্যায়সম্মত পন্থায় আদায়ের ক্ষেত্রে একমাত্র ইসলাম ব্যাতিত আর কোন জীবন ব্যবস্থার মধ্যেই দেখা যায় না। নিরাপত্তা অধিকারের মধ্যে সর্বপ্রথম যদি আমরা আত্মহত্যার দিকে তাকাই তাহলে দেখব যে আত্মহত্যাকারীর ব্যাপারে ইসলাম কতটা কঠোরতা আরোপ করেছে। অপরদিকে আত্মহত্যাকারী যদি বড় কোন ব্যক্তিত্ব হয় তাহলে সে দুনিয়ার মানুষের কাছে আরো প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠে। যার ফলে মানুষ তাকে দেখে অনুপ্রানিত হয়। আর যদি বড় কোন ব্যক্তিত্ব না হয়ে থাকে তাহলে তার পরিবারকে সমাজে হেয় করে দেখা হয়। ইসলাম আত্মহত্যাকারীকে পরকালে কঠিন শাস্তির হুমকি দিয়েছে। যার দ্বারা মানুষকে মানবতার চরম বিপর্যয় থেকে উদ্ধারের এক অকৃত্রিম পথ তৈরী হয়েছে। কেউ যদি কারো কোনো অঙ্গ কর্তন করে তাহলে ইসলাম সমপরিমান শাস্তির বিধান রেখেছে, যাতে করে মানুষ এ ব্যাপারে সাবধান হয়ে যায়। ফলে মানুষ তার খোদাপ্রদত্ত সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গ নিয়ে সুস্থ ও সবলভাবে সমাজে বসবাসের অধিকার নিশ্চিত হয়। ভুলে কেউ কারো অঙ্গহানী করলে বা হত্যা করলে দিয়াত বা রক্তপনের বিধান রয়েছে। ইচ্ছাকৃত হত্যা করলে কিসাসের বা হত্যার বদলে হত্যার বিধান করা হয়েছে। জান ও মালের উপর হামলাকারীকে প্রতিহত করার বিধান রয়েছে। ইসলামের এ সকল বিধানাবলীকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যার একটি জনগোষ্ঠি মধ্যযুগীয় বর্বরতা বলে আখ্যায়িত করে এবং এ সকল বিধান বাদ দিয়ে মনগড়া আরামদায়ক শাস্তির বিধান করেছে। যার ফলে বর্তমান বিশ্বকে যদি খুন-খারাবীর দিক বিবেচনায় মূর্খতার যুগের সাথে তুলনা করা হয় তাহলে সরিষাদানা পরিমানও অবিচার হবে না। 

মানুষের জন্য একটি অতীব মূল্যবান অধিকার হচ্ছে ন্যায় বিচার লাভের অধিকার। ইসলামের দৃষ্টিতে বাদশাহ বা সাধারন প্রজা ধনী কিংবা ফকির কালো অথবা সাদা সকলেই সমান। অতীতের এমন বহু ঘটনা ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লিখা রয়েছে যে মুসলিম শাসিত অঞ্চলে বাদশাহর বা খলীফার বিরূদ্ধে একজন সাধারন প্রজাকতৃক আদালতে মামলা হয়েছে এবং বিচারকের রায় ঐ খলীফা বা বাদশাহর বিপক্ষে হয়েছে। বর্তমানে ইসলামী শরীয়াহ ব্যবস্থা মানুষের মাঝে প্রচলন না থাকার কারনে আদালত প্রাঙ্গন হয়ে উঠেছে শোষনের অন্যতম হাতিয়ার। আর এই আদালতের মারপ্যাঁচকে কেন্দ্র করেই সরকারি ও বে-সরকারি কর্মকর্তা ও দালালরা হয়ে উঠেছে একেকজন হিটলার। যেখানে জনসাধারন এক সময়ে নিজেদের মধ্যকার ঝামেলা মিটিয়ে শান্তিতে বসবাস করার নিমিত্তে আসত। সেখানে আজ জনসাধারনের নিজেদের মধ্যকার বিবাদের আগুনকে বাতাস সরবরাহ করে সমাজে, রাষ্ট্রে বিশৃঙখলা সৃষ্টি করছে। একসময় আদালতে শান্তিপ্রিয় মানুষেরা উৎসাহের সাথে পূর্ন বিশ্বাস ও ভক্তি নিয়ে বিচার পেশ করত। কিন্তু এখন অশান্তিপ্রিয়রা উৎসাহের সাথে আদালতে যায়। অথচ আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেছেন “যখন তোমরা লোকদের মাঝে বিচার করবে তখন তোমরা ন্যায় বিচার করবে।” হাদিসে আছে, “বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুই ব্যক্তির মাঝে কোন বিষয়ে ফায়সালা না করে।” সুতরাং, সহজেই উপলব্ধ হয় যে, ইসলাম ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অন্যসব জীবন ব্যবস্থা থেকে অনেক এগিয়ে। 

এরপরে আছে মানুষের জীবন যাপনের অতিব প্রয়োজনীয় উপাদান অর্থসম্পদ। অর্থনৈতিক অধিকার বিষয়ে বিভিন্ন ধরণের ব্যবস্থপনা বিভিন্নভাবে বিভিন্নজনের হাতে বহু আকারে প্রনয়ন হয়েছে। এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে। পৃথিবীতে মানুষের খাদ্য চাহিদার থেকেও অনেক বেশী খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে প্রতিবছর। কিন্তু তবুও অসংখ্যা মানুষ না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। কেউবা অর্ধাহারেই তুষ্ট থাকছে বাধ্য হয়ে। আবার কেউবা অনাহারে মারা যাচ্ছে বহু ধরণের মরনব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে। এর কারন হচ্ছে অর্থনৈতিক অধিকারের সঠিক বিধান সম্বলিত ব্যবস্থা অর্থাৎ ইসলামিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দূরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যার ফলে অর্থনৈতিক বন্টন সুবিধাজনকভাবে হতে বাধাগ্রস্থ। এক্ষেত্রে ইসলাম মানুষের মধ্য থেকে লোভ-লালসাকে ত্যাগ করে ধনী-গরীব সকলের মধ্যে সমতা এবং পরষ্পরের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করতে যাকাতের বিধান করেছে। ওশর ও খেরাজের বিধান করেছে। যাতে করে প্রতিটি মানুষ তার অর্থনৈতিক অধিকার ন্যায় সম্মতভাবে ভোগ করতে পারে। দান সদকার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। গরীবদের উপর বিশেষভাবে গরীব আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীর উপর সম্পদ ব্যায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যার ফলে সেই গরীব ব্যক্তি সচ্ছলতায় এসে যাবে। এবং অভাবের তাড়নায় পড়ে সে অবৈধপন্থা তথা চুরি, ডাকাতী, ছিনতাই ও অন্যান্য ঘৃনিত উপার্জনের থেকে বিরত থাকবে। এতে করে সম্পদশালীর সম্পদও নিরাপদ হয়ে যাবে। এছাড়াও যাকাত প্রদানের দ্বারা সমাজের মানুষের মধ্যে বিরাজমান অভাব দূরীভুত হবে। যার ফলে মানুষের একে অন্যের মাঝে ভালবাসা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন তৈরী হয়। এরপরেও যদি কেউ চুরি করে, ছিনতাই ও ডাকাতীতে লিপ্ত হয়। তবে তাদের জন্য কঠিন শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। যা দেখে অন্যারাও সর্তক হয়ে যায়। এবং সম্পদ নিরাপদ থাকে। অর্থনৈতিক অধিকারের বিধানাবলীর মধ্যে আরো বিধান রাখা হয়েছে। বাকপটুতার মাধ্যমে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করা যাবে না। বর্তমান বিশ্বে মানব সভ্যতা এমন পর্যায়ে পৌঁেছছে যে মানুষ অন্যের সম্পদ বাকপটুতার মাধ্যমে অন্যায়ভাবে হস্তগত করাকে খুব গর্বের বিষয় মনে করে থাকে। এবং যে এই ধরনের কাজ করে থাকে, তাকে মানব সমাজে বুদ্ধিমান বলে আখ্যায়িত করা হয়। অথচ এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুলের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কেননা এর দ্বারা সমাজ থেকে শান্তি উঠে যায় এবং মানুষে মানুষে কোন্দল সৃষ্টি হয়। ইসলামি অর্থনীতিতে সুদকে হারাম করা হয়েছে। এবং সুদের সকল পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সুদ একটি মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি। একটি পরিবার, জাতি ও রাষ্ট্র ধ্বংসের মোক্ষম অস্ত্র হচ্ছে সুদ। পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় সুদকে হারাম ঘোষনা করা হয়েছে। মানুষকে সুদের ব্যাপারে নিরূৎসাহিত করতে অনেক আযাবের কথা বলে ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে আমরা যদি সুদের ব্যাপারটি বিশ্লেষণ করে দেখি তাহলে সহজেই অনুমান করতে পারি যে, সুদ সমাজের সকল স্তরের মানুষের অধিকার খর্ব করার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও ইসলাম মানুষের মৃত্যুর পরে ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ন্যায়সম্মতভাবে বন্টনের বিধান জারি করেছে। এবং এ ব্যাপারে সীমালঙ্ঘন না করার আদেশ দিয়েছে। বর্তমান সমাজে কেউ মারা গেলে তার ওয়ারিশদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়ে যায় মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্যকৃত সম্পত্তি বন্টন নিয়ে। অধিকাংশ সময় দেখা যায় যে, মৃত ব্যক্তি সৎকার করার টাকা কেউ দিতে চায় না। ফলে একজন ব্যক্তি জীবনের অবসান হওয়ার পরও অবহেলিত অবস্থায় থাকে। কিন্ত ইসলাম মৃতের সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে তার ছেড়ে যাওয়া অর্থ থেকে তার সৎকারের ব্যবস্থা করার আদেশ দিয়েছে। এবং ওয়ারিশদের মাঝে ভ্রাতৃত্বের ও আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখতে সম্পত্তির কতটুকু অংশ কে পাবে তা ন্যায়সম্মতভাবে কড়ায়-গন্ডায় আদায় করার বিধান ও আদেশ দিয়েছে স্পষ্ট ভাষায়। এবং এক্ষেত্রে ইসলাম ছোট, বোকা-জ্ঞানহীন এবং খেয়ানতকারীর হাতে মাল অর্পন করতে নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে। যাতে করে তারা অপচয়ের মাধ্যমে মাল নষ্ট করতে না পারে।

এই মানবাধিকারেরই একটি অন্যতম বিষয় হচ্ছে নারীর অধিকার। বিশেষভাবে বিবেচিত। যদি মানবজাতির মধ্যে নারীর অধিকার যথাযথভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয় তাহলে মানবসমাজ অচল। মানবাধিকার অচল। পৃথিবীতে একটা সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে যখন মানব সমাজে নারীকে গন্য করা হতো না। কারো কন্যাসন্তান হলে সেই কন্যাসন্তানকে জীবিত মাটিতে পুঁতে ফেলা হতো। নারীকে মনে করা হতো যৌনভোগ সামগ্রী। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। এমনকি নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে মুসলিমদের জীবন বিধান কুরআন শরীফে সুরা নিসা নামে একটি সুরা রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, নিসা শব্দটির অর্থ আসে মহিলাগন। উক্ত সুরার মাধ্যমে নারীর সম্মান, অধিকার নিয়ে বিভিন্ন বিধান জানানো হয়। নারীর অধিকার ঘোষনা করতে গিয়ে কুরআনে বলা হয়েছে যে, তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের জন্য পরিধেয় আর তোমরা তাদের জন্য পরিধেয়। উক্ত পবিত্র বানীর মাধ্যমে উপলব্ধ হয় যে, ইসলাম পুরুষকে যতটুকু অধিকার দিয়েছে ঠিক নারীকেও ততটুকু অধিকার দিয়েছে। নারীকে করা হয়েছে সম্মানিত। এবং তার জন্য যে গুরুদায়িত্ব ইসলাম নির্ধারণ করেছে তাও সম্মানিত। পৃথিবীতে আজ পর্যন্ত যত বড় মণীষি এসেছেন তাঁদের সকলেরই বড় হয়ে ওঠার পিছনে হয়তো তাঁর মায়ের নয়তো তাঁর বোনের অথবা তাঁর স্ত্রী-কন্যার ভূমিকা ছিল এবং আছে। ইসলাম একজন নারীকে সম্মান বা স্নেহ দিয়েছে মেয়েরূপে, বোন বিবেচনায়, খালা-ফুফুরূপে, স্ত্রীরূপে, মা, দাদী-নানীরূপে। পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা বা উন্নতি সাধনের লক্ষ্যে কাজ করে পুরুষ জাতি। আর সেই পুরুষকে সঠিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলে নারী। কেমন যেন সমগ্র পৃথিবীই আজ পর্যন্ত যতটা উন্নতির সোপানে পৌছেছে তার পিছনে নারীর ভূমিকাই মূখ্য। বর্তমান সময়ের পাশ্চাত্য জাতি যারা মূর্খতার যুগের অজ্ঞতার গভীরে থাকা মানবসমূহের উত্তরসুরীরূপে বিবেচিত তারা তাদের পূর্বপুরুষদের অনুসরনে নারী জাতিকে পরিপুর্নরূপে ভোগ-বিলাসের পাত্র বানাতে ইসলামের সঠিক জ্ঞান থেকে দূরে সরিয়ে ফেলেছে। এই নারী একসময় দুনিয়াজুড়ে কালজয়ী সেনানায়ক, ন্যায়বিচারক, বাদশাহ, জ্ঞানী, কবি, সাহিত্যিক উপহার দিয়েছে। আজ এই নারী পৃথিবীভরে নিজেকে পন্য বানিয়ে নিজেদের পেটে ধরা পুরুষের লোলুপ দৃষ্টির খোরাক হয়েছে। এসবই পাশ্চাত্য জীবনধারার অনুসরন ও ইসলামি শরীয়াহ থেকে বিচ্যুতির ফলাফল। বর্তমান সময়ে প্রতিদিন পত্র-পত্রিকায় কমপক্ষে একটা ধর্ষন বা যৌতুক সম্পর্কিত খবর থাকবেই। এহেন নাজুক পরিস্থিতি তৈরী হওয়ার পিছনে মূল কারন ইসলামি বিধানের অবজ্ঞা ও পাশ্চাত্যের অনুসরন। তবুও মানুষ কেন যেন সেই সোনালী দিনগুলোতে ফিরে যেতে চায় না। আবার ইসলামকেই উল্টো দোষ চাপিয়ে দেয়। কেমন যেন সাপের কবল থেকে বাঁচানো বেজিকেই হত্যা করা এবং সাপের সানিধ্য ফিরে যাওয়া। একজন নারীর সর্বাবস্থায় ইসলাম যে অধিকার দিয়েছে তা যদি নিরপেক্ষ বিচারে ধরা হয় তাহলে দুনিয়ার অন্য সকল নীতিমালা বানের স্রোতে খড়কুঠোর ন্যায় ভেসে যাবে। দুনিয়াতে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা পরিপূর্নরূপ পাবে যখন পিতা-মাতার অধিকার পুরোপুরিভাবে আদায় করা হবে। এই একটা ক্ষেত্রে পৃথিবীর অন্যান্য জীবন বিধান শিশুমাত্র। কারন হচ্ছে কোথাও কোন বিচারে বা কোন আইনে পিতা-মাতার অধিকার আদায়ের কথা জোড়দারভাবে বলা হয়নি। পিতা-মাতার অধিকার সংরক্ষনে ইসলাম অনন্য ভূমিকা রেখেছে। তাইতো সন্তানদেরকে পিতা-মাতার আদেশ নিষেধ পালন করা ও তাদের সাথে সর্বদা সদাচারণ করার নির্দেশ দিয়ে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে “আমি মানুষদেরকে তাদের পিতা-মাতার সাথে সদাচারণের নির্দেশ দিয়েছি।” মহান আল্লাহ তাআলা পিতা-মাতার অধিকারকে এতই গুরুত্বের সাথে পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, সন্তানদেরকে সর্বদা তাদের আনুগত্য করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং পিতা-মাতা শিরক ও কুফরের উপর আদেশ দেয়া বা বাধ্য করার আগ পর্যন্ত সন্তানদেরকে অম্লান বদনে তাঁদের আদেশ নিষেধ মেনে চলতে বলেছেন। এমনকি যদি তাঁরা কখনও শিরক ও কুফরের উপর বাধ্য করে তাহলে তখন তাঁদের কথা মানা যাবে না ঠিকই, কিন্ত তদুপরি তখনও তাঁদের সাথে খারাপ বা অসৎ আচরন করা যাবে না। বরং তখনও তাঁদের সাথে সদ্ব্যবহার বজায় রাখতে হবে। অপরদিকে বর্তমান পাশ্চাত্য সম্রাজ্যগুলোতে পিতা-মাতার অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি অনন্য নজির হচ্ছে, যদি পিতা-মাতার মধ্য থেকে যেকোন একজন সন্তানকে কোন অন্যায়ের কারনে অথবা অন্যায় থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে প্রহার বা বকাঝকা করে তবে সন্তান পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে পারবে। এবং সন্তান পুলিশে অভিযোগ করতে দেরী হতে পারে পিতা-মাতার হাজতে যাওয়া বিলম্বিত হয় না। এই যদি হয় আমাকে মানবরূপে দুনিয়ায় আনয়নকারী পিতা-মাতার অধিকার আদায়। তবে ঐ জীবন ব্যবস্থা দ্বারা আমি মানবের অধিকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে তা সহজেই অনুমেয়। অথচ পিতা-মাতার গুরুত্ব ও উচ্চ মর্যাদার কথা বোঝাতে গিয়ে আমাদের বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন “নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ পিতা-মাতার পদতলে।” 
মানুষ জন্মগতভাবেই সামাজিক জীব। আশেপাশের বসবাসকারী প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের অধিকার আবশ্যকীয়ভাবেই প্রত্যেকের উপর বর্তায়। এ অধিকার সম্পর্কে মানুষ অনেকটাই অজ্ঞ। বর্তমান প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা অনুযায়ী এ বিষয়ের উপর খুব কমই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ইসলাম প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়ের সাথে সৎব্যবহার করার আদেশ পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট ভাষায় দিয়েছে। বলা হয়েছে, “তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তার সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকটাত্মীয়ের সাথে, প্রতিবেশীর সাথে,....।” এখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হচ্ছে আল্লাহ যেখানে তার একত্ববাদের এবং তার ইবাদাতের কথা বলছেন সেখানেই নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীর অধিকার সম্পর্কে বিধান দিচ্ছেন। এর দ্বারা উপলব্ধ হয় যে নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীর অধিকারের উপর ইসলাম কতটা জোর দিয়েছে। এবং এই বিষয়টা এমন যে মানুষের শান্তি ও শৃঙ্খলার সাথে সমাজে বসবাস করতে প্রধান উপাদান হিসেবে নিলে ভুল হবে না। এবং এ বিষয়ে মুসলিমদেরকেই বেশী জোড়দারভাবে বলা হয়েছে। যেমন বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার শেকড় সর্বকালের মহামানব হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সেই ব্যক্তি প্রকৃত মুমিন নয় যে পেটভরে আহার করে অথচ তার প্রতিবেশী অনাহারে থাকে।” অর্থাৎ, প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয় যদি গরীব হয় আর তারা অনাহারে দিনাতিপাত করে থাকে, তবে প্রয়োজনে নিজে অর্ধাহারে কাটিয়ে হলেও তাদের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এর ফলে সমাজে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি হবে এবং এর দ্বারা বিশ্বে শান্তি ও ভালবাসার জোয়ার বয়ে যাবে। 
এরপরে মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকার তথা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার। এগুলোর উপর ভিত্তি করেই মূলত অন্য সকল অধিকারের বিধান করা হয়েছে। মানুষের মৌলিক অধিকারের মধ্যে অন্যতম তিনটি বিষয় হচ্ছে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান। যেকোনো মানুষের জীবন ধারনের জন্য এগুলো হচ্ছে অপরিহার্য। এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “ক্ষুধা মেটানোর জন্য রুটি ও পানিয়, আব্রু ঢাকার জন্য একটি কাপড় এবং বাস করার মতো একটি গৃহ - এর থেকে অধিকতর জরুরী আর কোন অধিকার আদম সন্তানের থাকতে পারে না।” উক্ত তিনটি অধিকারের পরেই বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার। মানব জীবনের এই সকল অধিকার বাস্তবায়নের জন্যে প্রথমত ইসলাম মুসলমানদেরকে হালাল পন্থায় জীবিকা অন্বেষণের নির্দেশ দিয়েছে। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে আদেশ করা হয়েছে এ ব্যাপারে হাদিসেও প্রায় একই কথা পাওয়া যায়। 
এ সকল বিষয়ের উপর বিবেচনা করলে দেখা যায় যে, দুনিয়ার সকল জীবন বিধানগুলোকে একত্রিত করে এক পাল্লায় রেখে অপর পাল্লায় যদি ইসলামকে রাখা হয় তবে ইসলামের পাল্লা ভারি হয়ে যাবে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষের জন্ম ও বেচে থাকার, নিরাপত্তার, ন্যায় বিচার লাভের, অর্থনৈতিক, নারীর, পিতা-মাতার, নিকটাত্মীয় ও প্রতিবেশীর এককথায় মানুষের মৌলিক অধিকারগুলো আদায়ে ইসলাম অনন্য ও অদ্বিতীয়। সুতরাং, প্রতিটি জ্ঞানসম্পন্ন মানুষই একথা নিদির্¦ধায় স্বীকার করতে বাধ্য যে একমাত্র ইসলামই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় পরিপুর্নতা পেয়েছে।






তাং-২৪ই নভেম্বর ২০১৭ইং


                                                                                                                          - রচনায়
                               মুহাম্মাদ ওবাইদুল্লাহ